অঞ্চলের যাচাইকৃত পরিচয়—বর্তমান সীমানাসহ স্পষ্টভাবে।
মুরাদনগরের ইতিহাস, মানুষ, প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি ও প্রকৃতির সঙ্গে পূর্বধইর (পূর্ব)-এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নতুন সরকারি গেজেটে ইউনিয়নটি এখন বাঙ্গরা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত—তাই এই পাতায় বর্তমান প্রশাসন ও পুরোনো আদমশুমারি এলাকার তথ্য আলাদা করে দেখানো হয়েছে।
নতুন
বাঙ্গরা উপজেলা
স্থানান্তরিত ১০ ইউনিয়ন · সদর দপ্তর বাঙ্গরা (পূর্ব)-এর খামারগ্রাম মৌজায় নির্ধারিত
01শ্রীকাইল
02আকুবপুর
03আন্দিকোট
04পূর্বধইর (পূর্ব)এই ইউনিয়ন
05পূর্বধইর (পশ্চিম)
06বাঙ্গরা (পূর্ব)
07বাঙ্গরা (পশ্চিম)
08চাপিতলা
09রামচন্দ্রপুর (উত্তর)
10টনকী
বর্তমান
বর্তমান মুরাদনগর
অবশিষ্ট ১২ ইউনিয়ন · আগের ইউনিয়ন নম্বর তথ্যসূত্র হিসেবে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে
২০২৬ সালের বিভাজনের আগে মুরাদনগরের আয়তন ছিল ৩৪০.৭৩ বর্গকিলোমিটার; অবস্থান ২৩°৩০′–২৩°৪৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৫২′–৯১°০৪′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
সাবেক সীমানার উত্তরে নবীনগর ও কসবা; পূর্বে কসবা, দেবিদ্বার ও ব্রাহ্মণপাড়া; দক্ষিণে চান্দিনা; এবং পশ্চিমে বাঞ্ছারামপুর, হোমনা, দাউদকান্দি ও তিতাস ছিল। দুই নতুন প্রশাসনিক এলাকার পৃথক আইনি আয়তন ও পূর্ণ সীমানা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
সাবেক উপজেলায় ২২টি ইউনিয়ন ও ১৯৮টি সাধারণ ওয়ার্ড ছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের গেজেটে ১০টি ইউনিয়ন বাঙ্গরায় স্থানান্তরিত হওয়ায় মুরাদনগরে ১২টি ইউনিয়ন অবশিষ্ট থাকে। বিভাজন-পরবর্তী ওয়ার্ড সংখ্যা আলাদাভাবে গেজেটে প্রকাশিত পাওয়া যায়নি।
বর্তমান মুরাদনগর পৌরসভা যাচাই করা যায়নি। বিবিএস ও মূল উপজেলা পোর্টালে কোনো পৌরসভার নাম নেই; তাই পুরোনো স্বাস্থ্য পোর্টালের নামবিহীন “১টি পৌরসভা” দাবিটি ব্যবহার করা হয়নি।
পূর্বধইর (পূর্ব) সরকারি পোর্টালে ৪ নং ইউনিয়ন হিসেবে নিশ্চিত।
বাঙ্গরার প্রশাসনিক সদর বাঙ্গরা (পূর্ব)-এর খামারগ্রাম মৌজায় নির্ধারিত।
পুরোনো সরকারি পোর্টালে এখনো বিভাজন-পূর্ব ২২ ইউনিয়নের কাঠামো দেখা যায়।
২০২২ সালের আদমশুমারিতে সাবেক ২২ ইউনিয়নের মুরাদনগর সীমানায় ১,৩১,৫৭৫টি খানায় ৫,৮২,৯৫০ জন মানুষ গণনা করা হয়। ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭২.৩৬%—পুরুষ ৭৩.২০% এবং নারী ৭১.৬৫%।
সাবেক আয়তন দিয়ে হিসাব করলে ঘনত্ব প্রায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,৭১১ জন। এটি একটি হিসাবকৃত বিভাজন-পূর্ব ঘনত্ব, প্রকাশিত বর্তমান ঘনত্ব নয়। বাঙ্গরা ও বর্তমান মুরাদনগরের পৃথক বিবিএস সংখ্যা এখনো নেই।
২০১১ সালের গণনাকৃত জনসংখ্যা: ৫,২৩,৫৫৬
২০১১ সালের সাক্ষরতার হার, ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব: ৪৮.৮%
পুরোনো পোর্টালের “২০১১ সালে ৫,৭৯,৭৩৩” সংখ্যা বিবিএসের সঙ্গে মেলে না এবং এখানে ব্যবহার করা হয়নি।
এলাকাটির আগের নাম ছিল থোল্লা। ১৮৫৮ সালে থানা স্থাপিত হয়; রাজস্ব সংগ্রাহক মীর মুরাদ আলীর নামের সঙ্গে সম্পর্কিতভাবে ১৮৭৮ সালে মুরাদনগর নামকরণ হয়; ১৯৮৩ সালে এটি উপজেলায় উন্নীত হয়।
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী মোগল আমলে এলাকা বলদাখাল পরগনার অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এখানকার মানুষ কৃষক ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়। মুক্তিযুদ্ধে পান্টিবাজার ও চাপিতলায় উল্লেখযোগ্য সম্মুখযুদ্ধের তথ্যও নথিভুক্ত আছে।
উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মুরাদনগর ডি.আর. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, জাহাপুর কে.কে. একাডেমি অ্যান্ড কলেজ, শ্রীকাইল সরকারি কলেজ, মুরাদনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, বাঙ্গরা উচ্চ বিদ্যালয় এবং রামচন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রাথমিক শিক্ষা তথ্যে ২০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। ২০২১ সালের মাধ্যমিক শিক্ষা তথ্যে ১টি সরকারি স্কুল, ৫২টি বেসরকারি স্কুল, ১১টি কলেজ, ১টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং ৩৫টি মাদ্রাসা উল্লেখ আছে। এগুলো বিভাজন-পূর্ব সংখ্যা—কোনো নতুন উপজেলার বর্তমান মোট হিসেবে দেখানো হয়নি।
শ্রীকাইল সরকারি কলেজ এখন বাঙ্গরা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত।
ডি.আর. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও জাহাপুর কে.কে. একাডেমি অ্যান্ড কলেজ বর্তমান মুরাদনগরের সঙ্গে যুক্ত।
কৃষি এখনো সরকারি কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। নথিভুক্ত ফসলের মধ্যে আউশ, আমন ও বোরো ধান, পাট, ভুট্টা, সরিষাসহ তেলবীজ, ডাল, মরিচ, আদা, হলুদ ও শাকসবজি রয়েছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তালিকায় মুরাদনগর বাজার ও রামচন্দ্রপুর বাজার রয়েছে। পুরোনো সরকারি পরিকল্পনায় কোম্পানীগঞ্জ, শ্রীকাইল ও ধনিরামপুরকেও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র বলা হয়েছে।
বিভক্ত এলাকার বাঙ্গরা অংশের সঙ্গে বর্তমানে ভৌগোলিকভাবে যুক্ত বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র ১৯৬৯ সালে আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯৮৪ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে।
ঢাকা থেকে সরকারি নির্দেশনায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে ময়নামতি, সেখান থেকে কুমিল্লা–ব্রাহ্মণবাড়িয়া/সিলেট সড়কে কোম্পানীগঞ্জ এবং পরে প্রায় ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে মুরাদনগর উপজেলা পরিষদে পৌঁছানো যায়।
কুমিল্লা থেকেও ময়নামতি–কোম্পানীগঞ্জ পথ ব্যবহার করা হয়। সাবেক উপজেলা কেন্দ্র কুমিল্লা জেলা সদর থেকে সড়কপথে ৩৫.৪২ কিলোমিটার বলা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ নেই; গোমতী নদীতে সীমিত পণ্য পরিবহনের ঐতিহাসিক ব্যবহার রয়েছে।
মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০টি অনুমোদিত শয্যার সরকারি প্রতিষ্ঠান। নিবন্ধিত সেবার মধ্যে জরুরি, অন্তর্বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্যাথলজি, ফার্মেসি, অপারেশন থিয়েটার ও অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে।
বৃহত্তর এলাকায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক সেবা দেয়। এগুলো বাঙ্গরা ও মুরাদনগরের মধ্যে কীভাবে বিভক্ত হয়েছে—তার পূর্ণ হালনাগাদ তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ কামিনী কুমার দত্ত শ্রীকাইলের সন্তান। শ্রীকাইলে জন্ম নেওয়া ক্যাপ্টেন নরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন চিকিৎসক, সমাজহিতৈষী ও শ্রীকাইল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা।
ফুটবলার ও সাবেক আইনপ্রণেতা রমিজউদ্দিন আহমেদের জন্ম বাবুটিপাড়ায়; তাঁর তথ্য মাধ্যমিক উৎসের উল্লেখসহ রাখা হয়েছে। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আকুবপুরের বাসিন্দা—তাঁর পরিচয় ২০২৪ সালের বাসস প্রতিবেদনের তারিখসহ দেওয়া হয়েছে।
কাজী নজরুল ইসলাম এখানে জন্মগ্রহণ করেননি; দৌলতপুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ঐতিহ্য বিভাগে দেখানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়/মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ, মুরাদনগর, কুমিল্লা। সরকারি যোগাযোগ: মোবাইল ০১৭৩৩৩৫৪৯৪৩, অফিস ফোন ০৮০২৬-৫৬১২০, ফ্যাক্স ০৮০২৬-৫৬২২০ এবং ইমেইল unomuradnagar1@gmail.com।
সরকারি পাতায় বর্তমান কর্মকর্তার নাম নিয়ে অসঙ্গতি থাকায় এই পাতায় ব্যক্তির নামের পরিবর্তে দপ্তরের যোগাযোগ প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্য পর্যালোচনার সময় নবগঠিত বাঙ্গরার আলাদা ইউএনও/যোগাযোগ ডিরেক্টরি পাওয়া যায়নি।
আপনার খোঁজের সঙ্গে মেলে—এমন কোনো স্থান পাওয়া যায়নি।
তথ্য সর্বশেষ পর্যালোচনা: ১৫ জুলাই ২০২৬। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক তথ্য দাপ্তরিক ব্যবহারের আগে পুনরায় যাচাই করুন। সম্পূর্ণ তথ্যসূত্র তালিকা দেখুন ↗